প্রকাশকালঃ ১৫ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৭:১৮ সময়

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারে বসেছে শতবর্ষী মাছের মেলা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর থেকেই মেলায় নামে মানুষের ঢল। ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় প্রাণবন্ত উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
মেলায় রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতলসহ বড় মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাস, গ্যাসকার্প, সিলভার কার্প, কালবাউশ এবং বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ যেমন চিংড়ি, টেংড়া, পাবদা ও শোলের ব্যাপক সমাহার দেখা যায়। আকার ও প্রজাতিভেদে প্রতি কেজি মাছ ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। সকাল থেকেই লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
স্থানীয়দের মতে, বৈশাখ এলেই এই মেলা মুরাদনগরের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। অনেকে সারা বছর অপেক্ষা করেন এই দিনটির জন্য। কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ স্বজনদের উপহার বা অতিথি আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে বড় মাছ সংগ্রহ করেন।
মেলায় মাছ কিনতে আসা বাবুল মিয়া বলেন, “প্রতি কেজি ৯০০ টাকা দরে দুটি বড় কাতলা কিনেছি। বছরের অন্য সময় এমন মাছ সহজে পাওয়া যায় না, তাই এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি।”
তবে গত বছরের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও ঐতিহ্যের টানে ক্রেতাদের ভিড়ে কোনো কমতি নেই।
রামচন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী সত্য সাহা বলেন, “দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতারা দরাদরি করে মাছ কিনছেন। পুরো মেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।”
মেলায় ঘুরতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক সফিক সরকার জানান, এই মেলার সঠিক সূচনাকাল নির্ধারণ করা না গেলেও এর ইতিহাস শত বছরের বেশি পুরোনো। এটি শুধু বেচাকেনার স্থান নয়, বরং মুরাদনগরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মাছের মেলা প্রতি বছরই স্থানীয় মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও উৎসবের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।