প্রকাশকালঃ ৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৭:১২ সময়

চুয়েট সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের ১২তম দিনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের দেওয়া একটি বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে শনিবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আন্দোলনের কারণে আটকে আছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যের এ বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত একাডেমিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষ্য, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে; কেবল একটি বিভাগের পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি।
এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে ‘চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা’, ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’সহ বিভিন্ন বার্তা লেখা ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অচলাবস্থা নিরসন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল এবং স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, তারা সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। প্রশাসনের নীরবতায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।