প্রকাশকালঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৬:৪৯ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রায় ২০০ বছর পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমোরকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামীকাল বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। টেনেসির গভর্নর বিল লি তার প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রেখেছেন।
বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ১৮ বছর বয়সে তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক তাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমোরকে হত্যা করেন। ১৯৯৫ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে নৃশংসতার মাত্রা এবং অভিযুক্তদের অল্প বয়সের কারণে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরের বছর আদালত ক্রিস্টাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ক্রিস্টার আইনজীবীদের দাবি, শৈশব থেকেই তিনি গুরুতর যৌন নির্যাতন ও মানসিক সংকটের মধ্যে ছিলেন। তাদের ভাষ্য, ১১ ও ১৭ বছর বয়সে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। বিচার চলাকালে তার এই অতীত ও মানসিক অবস্থার বিষয়গুলো জুরিদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের দাবিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ (এসিএলইউ) বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের কাছে আবেদন জানায়। তবে বিল লি বলেন, মামলার সব দিক পর্যালোচনা করে তিনি আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গভর্নরের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিস্টার আইনজীবীরা। তাদের দাবি, ১৮ বছর বয়সী ক্রিস্টার অপরাধের সময়কার মানসিক অবস্থা ও শৈশবের ট্রমা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে তিনি নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত এবং কারাগারে অন্য নারী বন্দিদের সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তারা।
প্রাণভিক্ষার আবেদনে ক্রিস্টা নিজেও হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, অপরাধটি উপলব্ধি করতে তার বহু বছর লেগেছে এবং কীভাবে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন, তা এখন ভাবলেও তিনি শিউরে ওঠেন।
ক্রিস্টার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা তার বয়স, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাসকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এদিকে নিহত কলিন স্লেমোরের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের স্মৃতিচারণ করে জানান, কলিন স্পেশাল অলিম্পিকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।
টেনেসিতে সর্বশেষ কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৮২০ সালে। মার্টিন ইভ নামের ওই নারীকে একটি অপরাধে সহায়তার অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে প্রায় দুই শতাব্দী পর অঙ্গরাজ্যটিতে আবার কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটবে।