প্রকাশকালঃ ৫ মে ২০২৬, দুপুর ১:৪৯ সময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে স্পষ্ট করেছে যে, রাষ্ট্র গঠন ও সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই তাদের কার্যক্রম চলবে।
গত ১০ এপ্রিল সংগঠনটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধান কমান্ডার তুন মিয়াত নাইং বলেন, ‘লড়াই করতে করতে গড়ে তোলা, আর গড়তে গড়তেই লড়াই’—এই নীতিতেই তারা এগোচ্ছেন। তিনি জানান, মুক্ত এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পাশাপাশি সামরিক শক্তি সম্প্রসারণই তাদের কৌশলের মূলভিত্তি।
এদিকে উপপ্রধান কমান্ডার নিও তুন আউং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মিত্র সংগঠন ইন্টারিম চিন ন্যাশনাল কনসালটেটিভ কাউন্সিল-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, জনগণের মুক্তি অর্জনে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা অপরিহার্য। যদিও এএ এখনও ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স-এর অংশ, তবে উত্তর শান অঞ্চলের অন্যান্য মিত্রদের তুলনায় তাদের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাকান আর্মির কার্যক্রম চীন সীমান্ত থেকে দূরে হওয়ায় চীন-এর সরাসরি প্রভাব সীমিত। ফলে বেইজিং তাদের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ শহর সিত্তে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং দ্বীপ এখনো মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও চীনের উদ্যোগে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও বিশ্লেষকদের ধারণা—নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই কম।
বর্তমানে আরাকান আর্মিকে মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের যোদ্ধা সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয় এবং রাখাইন অঞ্চলে তাদের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে।
ভৌগোলিক দিক থেকেও এএ কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা সমুদ্রপথে সংযুক্ত এবং ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সুবিধা পাচ্ছে তারা। অন্যদিকে কিছু মিত্র গোষ্ঠী স্থলবেষ্টিত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে সীমাবদ্ধতায় রয়েছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তুন মিয়াত নাইং স্বীকার করেন, আরাকান আর্মি এখনও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনটির মূল লক্ষ্য আপাতত নিজস্ব অঞ্চল ও জনগণকেন্দ্রিকই রয়ে গেছে।