প্রকাশকালঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২:০৩ সময়

নতুন সরকারের যাত্রার প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন **বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)**র সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে।
বিএনপির অবস্থান—সংবিধানে এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে বিরোধী জোট বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তাদের মতে, বিএনপির অবস্থান গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
সংসদ সচিবালয় গতকাল সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—এই দুই ধরনের শপথের প্রস্তুতি নেয়। তবে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন, পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। একই অবস্থান নেন সাতজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও।
অন্যদিকে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের মোট ৭৮ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলীয় সংসদ সদস্যদের জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিষদ গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শপথকক্ষে বিএনপির সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ সদস্যের শপথপত্র দেওয়া হলেও পরিষদের শপথপত্র গ্রহণ না করে তারা তা আসনে রেখে বেরিয়ে যান।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিএনপি পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে এবং গণভোটের রায়কে অসম্মান করেছে।
এনসিপি বিএনপির অবস্থানের প্রতিবাদে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সরকার জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের মতে, গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম দিনেই জনরায় উপেক্ষার একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
এদিকে গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে **বাংলাদেশ হাইকোর্ট**ে একটি রিট আবেদন দায়ের হয়েছে। বিরোধী জোটের একাধিক নেতার সন্দেহ, এ উদ্যোগের পেছনে বিএনপির ভূমিকা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে বিএনপি শপথ না নেওয়ায় পরিষদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কীভাবে এগোবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপি যোগ না দিলে কোরাম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নতুন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।