প্রকাশকালঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ৯:০৪ সময়

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
★ ২২ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি।

গ্রামপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গ্রাম পুলিশদের কর্মদক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের অধীন কর্মরত গ্রাম পুলিশরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল গ্রাম পুলিশদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান, তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
প্রশিক্ষণে কমিউনিটি পুলিশিং, অপরাধ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ, মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, ভূমি ও সামাজিক বিরোধে প্রাথমিক ভূমিকা, রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং নাগরিকদের সঙ্গে আচরণবিধি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণ কোর্সের সার্বিক দিকনির্দেশনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। কোর্স উপদেষ্টা মুঃ রেজা হাসান, জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা, অনিবার্য কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা জোরদারে এ ধরনের প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কোর্স পরিচালক হিসেবে প্রশিক্ষণের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক তত্ত্বাবধান করেন কুমিল্লা জেলার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মেহেদী মাহমুদ আকন্দ। তিনি বলেন, দক্ষ ও সচেতন গ্রাম পুলিশই তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করতে পারে, আর সে জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোর্স সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান। তিনি প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন, যিনি গ্রাম পুলিশদের দায়িত্ব পালনে আইনগত সচেতনতা, নৈতিকতা ও পেশাগত শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা এ প্রশিক্ষণকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে গ্রাম পুলিশদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাঠপর্যায়ে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া গ্রাম পুলিশরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দায়িত্ব পালনে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। আইনগত সীমাবদ্ধতা, রিপোর্টিং পদ্ধতি ও নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন বলে মত দেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এ প্রশিক্ষণের অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে গ্রাম পুলিশরা প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।