প্রকাশকালঃ ২৫ জুন ২০২৬, দুপুর ২:২৬ সময়

ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বাধীন ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে চীনের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তিনি জানান, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাঁর বক্তব্য এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দেশটি অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। অতীতের একমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তে বর্তমানে বাংলাদেশ বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। চীন সফরও সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয় এবং তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা যায়।
মুদির দোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে রিজভী বলেন, ছোট ব্যবসায়ীদের আয় সীমিত হওয়ায় তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। তবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর দেওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও করের বাইরে রয়েছেন, তাদের করের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি এবং নানা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও দলটির জনপ্রিয়তা কমানো সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, ভারতের কলকাতায় অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন করা রুচিবিরোধী কাজ। অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন নেতার নামে প্রতিষ্ঠানের নাম এখনো বহাল রয়েছে, যা বাংলাদেশের শিষ্টাচার ও সৌজন্যের পরিচয় বহন করে।