প্রকাশকালঃ ২০ জুন ২০২৬, দুপুর ৩:১২ সময়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে “হস্তক্ষেপ” করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একইভাবে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক পদে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং জনগণ তা কখনোই মেনে নেয় না। তার মতে, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকা উচিত।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ওই আন্দোলনের কারণেই ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার দাবি, শহীদ ও আহতদের অবজ্ঞা করা হলে তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে হলে একটি ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতে পারত, কিন্তু জনগণের সেই “বিজয় প্রতিফলিত হয়নি”।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের রায়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি। গণভোট ও জনগণের রায়কে সম্মান না করলে গণতন্ত্র টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ করছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বার। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াত আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যরা।
পরে অনুষ্ঠানে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য মহানগর জামায়াত আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।