প্রকাশকালঃ ৩০ মে ২০২৬, রাত ১১:১৯ সময়

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার করা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য, উল্লিখিত অর্থ বিধি অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। তারা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বললেও নিজেদের মধ্যে সেই সমন্বয় ছিল না।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, রাজস্ব খাত ও এডিপি বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলাতেও সেই বরাদ্দ পৌঁছেছে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এসব অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র জেলা পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে।”
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেবিদ্বার উপজেলায় ১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং তা এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের সঙ্গে এই বরাদ্দের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রশাসক বিষয়টি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা থাকলে এ ধরনের মন্তব্য করতেন না। তার বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছি, অথচ বরাদ্দের পুরো অর্থই উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় হয়েছে।”
তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, “নিজস্ব রাজস্ব তহবিল হোক কিংবা এডিপির বিশেষ বরাদ্দ—সবই সরকারি অর্থ। দুই উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো তদন্ত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় কুমিল্লার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।