প্রকাশকালঃ ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৭:০৫ সময়

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক/বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদীপক্ষের আপসনামা ও আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিন নামঞ্জুরের আদেশের সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামি বয়স্ক হলেও ভিকটিম অতি অল্পবয়সী। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন। এ মামলায় আসামির হাজতবাসকে পর্যাপ্ত সময় হয়েছে বলে মনে করছে না আদালত। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান বলেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই। পাশাপাশি গাজী নজরুলের অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। আইনজীবী হারুন অর রশিদ বলেন, মামলাটি অনাপোষযোগ্য ধারায় হওয়ায় আপসনামার ভিত্তিতে জামিন চাওয়া আইনসঙ্গত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে গাজী নজরুলকে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। ওই দিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর গাজী নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান।