প্রকাশকালঃ ৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৩৮ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু হচ্ছে। ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এমন বার্তা সামনে রেখে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হন।
তিনি বলেন, ‘শুধু মুখে বলব না, সঙ্গে আমরা সব মেটেরিয়াল সাপ্লাই করব। ট্যাবলেট, কন্ট্রাসেপটিভস, প্যাড—পরিবার পরিকল্পনার যা যা আছে, সবকিছু ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। অতীতে নানা কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
তিনি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম দুর্বল জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘৮টা ফুল সেটের কেমোথেরাপির মেশিন নষ্ট হয়েছিল। ১৭টি রেডিওথেরাপি যন্ত্র কেনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী দিনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।