প্রকাশকালঃ ১৭ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:৫০ সময়

কিশোরগঞ্জে বাবা আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অপর তিন আসামি নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও সেলিমের স্ত্রী ময়না আক্তারকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় সেলিম ও তার স্ত্রী ময়না আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সেলিমের মা আছিয়া খাতুন ও ভাই জাবেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্প যশোদল ভুবিরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বাক্কার সিদ্দিক ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী আছিয়া খাতুনের সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে।
এজাহারে বলা হয়, ওই রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু বাক্কারকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
পরদিন সকালে সেলিম বাড়ির উঠানে চিৎকার করে জানান, তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পিঠেও আঘাত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা আবু বাক্কার ও আহত সেলিমকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আবু বাক্কারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের দুই ছেলে সেলিম ও জাবেদ, স্ত্রী আছিয়া খাতুন এবং সেলিমের স্ত্রী ময়না আক্তারকে আসামি করা হয়।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক সঞ্জয় কুমার বণিক তদন্ত শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে সোমবার আদালত সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।