প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৫:১৮ সময়

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের পোশাক শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রুমানা রশীদ। তিনি বলেন, জ্বালানির অনিয়মিত সরবরাহ ও ঘাটতির কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না, যা রফতানি খাতের প্রতিযোগিতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ড্যানিশ দূতাবাস এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি সার্বভৌমত্ব: টেকসই ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমানা রশীদ বলেন, গার্মেন্ট শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এটি বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তায় অনেক কারখানাকে বিকল্প উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এখন সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, ফলে আগামী দিনে রপ্তানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের জন্য পরিবেশগত মানদণ্ড ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়বে। এজন্য পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও দক্ষ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
তার ভাষায়, টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ অপরিহার্য। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইতোমধ্যে পোশাক খাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে ডিকার্বনাইজেশন কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০০টি কারখানায় এনার্জি অডিট পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ড্যানিডার মতো সংস্থাও সহযোগিতা করছে।
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ থাকলেও উচ্চ করহার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সোলার প্যানেল, ইনভার্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর মোট করহার অনেক ক্ষেত্রে ২৮ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। শুধু সোলার প্যানেলের ওপরই প্রায় ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ইনভার্টারের ওপর প্রায় ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কর রয়েছে। এই কর কমানো হলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও ঋণ সুবিধা ব্যবহার করে কারখানাগুলো সহজেই এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে, যা উৎপাদন খরচ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে।
