প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ৪:২২ সময়

সংসদ প্রতিবেদক:
বর্তমান জাতীয় সংসদের সদস্যদের সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার অধিকাংশই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের—এমন দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারি দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্বাচনের আগে আংশিক পরিশোধের মাধ্যমে এসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতেই একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল বড় অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল সহজ করা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হলেও বাস্তবে নির্বাচনের আগে আংশিক ঋণ পরিশোধ করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন এবং সংসদ সদস্য হয়েছেন।
এ সময় তিনি কয়েকজন সংসদ সদস্যের ঋণের পরিমাণ তুলে ধরে বলেন, কারও ঋণ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, কারও ৭৬৫ কোটি, ৬৭৯ কোটি, ৬২১ কোটি, ২০১ কোটি, ১৮২ কোটি এবং ৯৭ কোটি টাকা।
আর্থিক খাতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
