প্রকাশকালঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১১:৩৪ সময়


ভিডিওটি নজরে আসার পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে উদ্যোগ নেয় ওয়াব (WAB) টিম। পরে বরিশালের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিক শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় উজিরপুর থানা পুলিশও বিষয়টি খোঁজখবর নেয়।
ওয়াব টিমের সদস্যদের দাবি, অনিক শিকদারকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি সঠিক নয়। তাদের ভাষ্য, অনিকের বাবা একসময় স্বচ্ছল ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সবকিছু ব্যয় হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অনিক শিকদার নেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। এ সুযোগে স্থানীয় একটি মাদকচক্র ও কিছু ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও দেখে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য ওয়াব টিমের বরিশাল টিমকে অবহিত করা হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবকেরা ওই পরিবারের কাছে গিয়ে অনিকের মেয়ে তুবার সঙ্গে কথা বলেন। ছোট্ট তুবা তার বাবার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। অনিক শিকদারও নিজের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে ওয়াব টিম জানিয়েছে।
ওয়াব টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনিক শিকদারকে স্বাভাবিক ও কর্মমুখী জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে উজিরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফারুকের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। পুলিশ বিষয়টি সার্বিকভাবে দেখভালের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে জীবিকা নির্বাহের জন্য অনিক শিকদার একটি অটোভ্যানের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন। তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে WAB Foundation-এর পক্ষ থেকে একটি অটোভ্যান কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ারও উদ্যোগ জানিয়েছে ওয়াব ফাউন্ডেশন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আরও কয়েকজন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ওয়াব টিমের সদস্যরা জানান, একটি ঘটনার কারণে কাউকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।