প্রকাশকালঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৪:০২ সময়

বাসস
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
নিউইয়র্ক থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তা, বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং সংকটের স্থায়ী সমাধান—তিন ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি রয়েছে। অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং বিশ্বের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় মানবিক সহায়তাও সংকুচিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইরিন খান বলেন, রোহিঙ্গারা প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে বসবাস করছে। এসব শিবিরে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। দীর্ঘদিন শিবিরে বসবাস কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন চায়।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং সংকটে প্রভাবিত অন্যান্য দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা। মিয়ানমার সরকারকে তাদের আইনগত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইরিন খান বলেন, বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গা ও বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ, মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, বিচার ও জবাবদিহি জোরদার করা এবং মাদক, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে শুধু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন সংকটের স্থায়ী অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।