প্রকাশকালঃ ৭ মে ২০২৬, বিকাল ৫:৪০ সময়

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সুশাসন নিশ্চিতকল্পে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকগণ।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশের বর্তমান দুর্নীতি বিরোধী কাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে টিআইবি প্রধান জানান, বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে টিআইবি’র পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রধানমন্ত্রীর নিকট পেশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে বেশ কিছু কৌশলগত পরামর্শ দিয়েছি। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং উচ্চপর্যায়ের দাপ্তরিক কাজগুলোতে কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দুর্নীতি কমানো যায়, সে বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং সেগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতির কথা বলে আসছে। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের সংস্কার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ তার সরকার গ্রহণ করবে। টিআইবি’র দেওয়া পরামর্শগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে আলোচনা করে কীভাবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দুর্নীতিবিরোধী অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই বৈঠকে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। টিআইবি’র পক্ষ থেকে ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী কনফারেন্স’ (International Anti-Corruption Conference - IACC) বাংলাদেশে আয়োজনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের উপস্থিতিতে এই বিশাল সম্মেলনটি যদি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের একটি জোরালো স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে এই আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, টিআইবি’র মতো একটি নিরপেক্ষ ও তদারকি সংস্থার সাথে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং দুর্নীতির যে সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে উঠেছিল, তা ভাঙতে এ ধরনের সংলাপের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাবটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
বৈঠক শেষে ড. ইফতেখারুজ্জামান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের সদিচ্ছা এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা বজায় থাকলে আগামীর বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গড়ার প্রক্রিয়া নতুন গতিবেগ পেয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা, এই আলোচনা কেবল টেবিলেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব রূপ লাভ করবে।