প্রকাশকালঃ ২৩ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:১১ সময়

অনলাইন ডেস্ক:
মালয়েশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট চীনের দালিয়ানের ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে দালিয়ানের হোটেল শাংগ্রি-লায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সোমবার বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে দুই দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রীয় সফরের মূল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
সফরের প্রথম দিনে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইংগির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
বিকেলে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আগামীকাল বুধবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘সামার ডাভোস’ নামে পরিচিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের সুযোগও থাকবে।
একই দিনে চীনের রেলওয়ে, সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং যন্ত্রপ্রকৌশল খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে হাই-স্পিড ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১০০ জন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।
এদিন চীনের বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছে চেরি গ্রুপ, হান্ডা গ্রুপ এবং চায়নাটেক্স করপোরেশনের প্রতিনিধিরা।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই ও বিনিময় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে চীনা প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন তিনি।
সফরের শেষ দিনে শুক্রবার ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরও পরিদর্শন করবেন।
সব কর্মসূচি শেষে শুক্রবার বিকেলে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রাতেই দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।