প্রকাশকালঃ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:১০ সময়

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমানের দিল্লি সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ কাজ করছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁদের সংশ্লিষ্ট টিমকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। উপযুক্ত সময়ে দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসবেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না—এমনটা আশা করা ঠিক নয়। তবে দুই দেশের নেতা একসঙ্গে বসলে এমন কোনো প্রশ্ন নেই, যার সমাধান সম্ভব নয়। সঠিক সময়ে সফরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।
এর আগে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। সেখানে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই; সময় হলে সফর হবে।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে নয়, দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও যোগাযোগ বাড়াতে হবে। পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রয়োজন। এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করলে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। দুই দেশের সাধারণ মানুষই পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটা তো মাথার ওপর দিয়ে গেল।’
সাক্ষাৎ শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, এটি ছিল ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ।
এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।