প্রকাশকালঃ ৪ জুন ২০২৬, দুপুর ১১:১৯ সময়

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুন মহররম বা কারবালা দিবসকে কেন্দ্র করে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও স্মরণানুষ্ঠান পালন করা হবে।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে জানানো হয়। তার মৃত্যুর পর দেশে ৪০ দিনের শোক এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এরপর ৪ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ সময়ের মধ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তিনি তার বাবার শেষকৃত্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অবশেষে আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য বৃহৎ পরিসরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দাফন ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ জানিয়েছেন যে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান ছাড়াও কোম ও মাশহাদ শহরে শোকযাত্রার প্রধান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাশহাদেই দাফন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেপুটি মেয়র আরও জানান, ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের শুরুতে, অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হতে পারে। তেহরানের মূল কর্মসূচি অন্তত ২৪ ঘণ্টা চলবে এবং এতে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার পিতাকেও মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারসংলগ্ন এলাকায় সমাহিত করা হয়েছিল।