প্রকাশকালঃ ২ জুন ২০২৬, দুপুর ১১:০১ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে সরাসরি বৃহৎ সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পক্ষে নন। বিশেষ করে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়ুক, এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, টানা ৪০ দিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি চলার পর গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর পাকিস্তানের উদ্যোগে কয়েক দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
তবে আলোচনার পাশাপাশি মাঠের বাস্তবতায় উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটি কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিও এড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকাপের আগে নতুন কোনো বড় যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে সাময়িক সমঝোতা কিংবা উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
পর্যবেক্ষকরা আরও মনে করছেন, ইসরায়েলও বর্তমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। তাদের কৌশলগত অবস্থান ও নিরাপত্তা স্বার্থ পুরো সংকটের গতিপথকে প্রভাবিত করছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে, যেখানে সামান্য কোনো ঘটনা থেকেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।