প্রকাশকালঃ ৩০ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১২:০৬ সময়

নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়নি ইরান। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’-এর ছয়জন নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্তি দেয়া হয়েছে। দেশটির ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। খবর তাসনিম নিউজ এজেন্সির।
২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়, যা ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ইরান এ ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান শুরু থেকেই বলেছিল, নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত ছিল। পরিবর্তে ‘আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক পথে’ তাদের মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ছয়জন নাবিক দেশে ফিরেছেন। তবে এখনো বাকি ২২ জন নাবিক যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য ইরানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারস জানায়, নাবিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় তারা নিয়ন্ত্রণ নিতে বাধ্য হয়েছে। জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল বলেও তাদের বক্তব্য।
ঘটনার পরপরই ইরান প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌযানের দিকে ড্রোন হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি এলাকায় উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, ফলে সেখানে যেকোনো সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
