প্রকাশকালঃ ৭ মে ২০২৬, বিকাল ৫:১১ সময়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না করলে কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই সংলাপের আয়োজন করে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের ক্লাসে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক আন্দোলন করেছেন। তবে সরকার তার অবস্থানে অটল রয়েছে। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষ করে শিক্ষকেরা চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন।
শিক্ষা খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে দুর্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকার এখন তা পুনর্গঠনের কাজ করছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য একটি নিয়ন্ত্রক বোর্ড গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে আগামী ১৪ মে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। কিছু ভবন এতটাই নাজুক যে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ ছাড়া উপায় নেই।
শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষাদানের পদ্ধতির সঙ্গেও ভবনের নকশা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সমমানের শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে, যা আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য টেকসই কর্মপরিকল্পনা হিসেবে তৈরি করা হবে। এটি আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় থাকবে।
এছাড়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
