প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪১ সময়

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশে নামিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর আগে জুলাই মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসে সংস্থাটি এ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল।
বুধবার প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়ে যায়। তবে এ প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে এডিবি।
মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এডিবির হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ শতাংশ থাকা মূল্যস্ফীতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। তবে জ্বালানি ঘাটতি, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দামের ওপর এল নিনোর প্রভাবের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠতে পারে।
এদিকে রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় চলতি হিসাবের ঘাটতিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সংস্থাটির হিসাবে, এই ঘাটতি জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে প্রধানত সেবা ও কৃষি খাত ভূমিকা রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বেসরকারি ভোগব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও তুলনামূলক শক্তিশালী থাকতে পারে, যা দেশের বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
তবে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে এডিবি। উচ্চ ঋণগ্রহণের ব্যয়, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি ঘাটতি এবং দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এ খাতগুলোর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া তেলের উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, ব্যাংকিং খাতের চাপ, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ুজনিত বিভিন্ন অভিঘাত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়াংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে এগোলেও দেশটি এখনো বাহ্যিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব সংস্কার জরুরি।
কিয়াংফেং ঝাং আরও বলেন, সংস্কারগুলো যাতে দেশের মানুষের জন্য দৃশ্যমান ও বাস্তব সুফলে পরিণত হয়, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে এডিবি প্রস্তুত রয়েছে।