প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৭:৩৯ সময়

সিরাজুল ইসলাম রতন, গাইবান্ধা:
সারের বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের লক্ষ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের মাঝে সার বিতরণ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সার কার্ড তৈরি ও বিতরণের উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানান পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন সোহেল।
তিনি জানান, উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে সার মনিটরিংয়ের সময় দেখা গেছে, কৃষক নন—এমন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার উত্তোলন করে মজুদ করায় মাঝেমধ্যে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি নিরসনে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন সোহেলের উদ্যোগে উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের মধ্যে সার বিতরণ কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে বর্তমানে কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের হাতে সার বিতরণ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই কার্ড চালু হলে সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি অতিরিক্ত সার উত্তোলন ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর-বাড়াইপাড়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সার বিতরণ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত ভালো। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সার সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট ও অপচয় কমবে। কোনো কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার কিনতে পারবেন না। এতে সার পেতে কৃষকদের ভোগান্তিও কমবে।
তিনি বলেন, শুধু পলাশবাড়ী নয়, সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারা দেশে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে সার নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা বা সিন্ডিকেট তৈরির সুযোগ থাকবে না।
বরিশাল ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শর্মিলা শারমিন বলেন, সার বিতরণ কার্ড চালুর উদ্যোগটি পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং এ কাজে কৃষকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সার বিতরণ কার্ড চালু হলে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।