প্রকাশকালঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৫২ সময়

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাম্প্রতিক কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের একদল ব্যক্তি রাতে বিতর্কিত জমিটি দখলে নিতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এর মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের ব্যবহৃত স্থাপনাটিও ছিল।
তিনি জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
ভাঙচুরের ঘটনায় সালমান মুক্তাদির এখনো মামলা করেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে।
সালমান মুক্তাদিরের একটি ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমান নিজেই জানিয়েছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।
তিনি বলেন, ‘যদি তার কাছে কেউ চাঁদা না চেয়ে থাকে এবং তিনি বলেন, কেউ চাইলে তিনি দিয়ে দিতেন, তাহলে তিনি কীভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলে ঢালাও অভিযোগ করতে পারেন?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সালমানের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তিনি মামলা করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নাশকতার পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অভিযানে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২৭ জনকে এখনো হেফাজতে রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের কেউ নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কার্যালয়ে আলোচনা করতে চাইলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ওই সমাবেশের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি।
মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ওই ঘটনায় কেন্দ্রটির একটি ক্লিনিক ও দীর্ঘদিনের শিশু টিকাদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘তারা যে-ই হোক এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, আমরা সেটা বিবেচনায় নেব না।’
এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো একটি জোটের দাবি মেনে নিলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে—এমন বক্তব্য ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণ বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে কর্মকর্তাদের বদলি করা হতে পারে। তবে বদলিই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নয়; প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।