প্রকাশকালঃ ২৫ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১১:১৮ সময়

সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক বাসিয়া খালের পুনখননকে ঘিরে বিভাগজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী ২ মে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকবাজারে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বাসিয়া খালকে ঘিরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে নতুন করে যোগ হচ্ছে তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম—এমন ভাবনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন প্রবীণ থেকে সাধারণ কৃষক।
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, তৎকালীন সময়ে জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন। মাটি বহন করা থেকে শুরু করে খনন শেষে গাছতলায় বিশ্রাম নেওয়া—এসব দৃশ্য এখনো অনেকের স্মৃতিতে ভাসে।
একসময় নদী হিসেবে পরিচিত বাসিয়া খাল সুরমা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বিভিন্ন উপজেলা পেরিয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর নাব্যতা হারিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, খনন কাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এতে দীর্ঘদিনের সেচ সংকট দূর হবে এবং ধানসহ মৌসুমি ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, ২ মে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন হবে, যার মাধ্যমে সারাদেশে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম সিলেট সফর। এ উপলক্ষে পুরো জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসিয়া খাল পুনখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি একটি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ। কৃষি, নৌপথ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে।
