প্রকাশকালঃ ২২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৯:৪৩ সময়

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা ইউনিয়নের খাপুড়া গ্রামে জাহাঙ্গীর আলম (৫৬) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যা করে ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এক ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা-মা তাকে মারধর করেন এবং স্থানীয়ভাবে বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন যুবক জাহাঙ্গীর আলমকে বাড়ি থেকে তুলে এনে খাপুড়া বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে তার ছেলে সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
তবে পরদিন ভোরে ঘরের ভেতর জাহাঙ্গীর আলমের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় মরদেহের পা মাটিতে স্পর্শ করছিল বলে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, যা আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে আরও সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
নিহতের ছেলে সুমন মিয়া বাদী হয়ে বাঙ্গরাবাজার থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বাঙ্গরাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তে অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে খাপুড়া গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পরই জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত হত্যা না আত্মহত্যা—এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।