প্রকাশকালঃ ৮ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১১:৫০ সময়

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়ে তিনি বিএমইউকে চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবায় রোল মডেলে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপাচার্য তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা যাতে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করেন এবং একই সাথে দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। একই সাথে রোগীদের সর্বোচ্চমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।
বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মতবিনিময়ে মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডিন ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, মেডিক্যাল টেকনোলজি অনুষদের ডিন ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম, অধ্যাপক ডা. মোঃ ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এমএ হাসানাত, অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. দীনে মুজাহিদ মোঃ ফারুক উসমানী, উপ-রেজিস্ট্রার (আইন) সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আলী ফয়সাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেইজমেন্টে স্থাপিত দেশের প্রথম অত্যাধুনিক এআই ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিজিক্যাল এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর। এসময় সম্মানিত উপ-উপাচার্যগণ, ডিনবৃন্দ, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মোঃ শাহিদুল হাসান বাবুল সহকারী প্রক্টর ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে উপাচার্য রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ব্যবহৃত রোবটিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেন্টারের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় উপাচার্য মহোদয় বলেন, এই অত্যাধুনিক রোবটিক সেন্টার দেশের পুনর্বাসন চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, চীন সরকারের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সেন্টারটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর জানান, এখানে মোট ৬২ টি যন্ত্র আছে যার মধ্যে ৫৭টি রোবট স্থাপন করা হয়েছে এবং ৫ টি ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেইনিং বেড । ৫৭টি রোবট এর মধ্যে ২২টি রোবট সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর। এসব রোবট ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্থ ¯œায়ু পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। তিনি জানান, স্ট্রোক বা স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে এখানে রয়েছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’, যাকে গেইট ট্রেনিং রোবট বলা হয়। এছাড়া হাত ও পায়ের কার্যক্ষমতা নিখুঁতভাবে ফিরিয়ে আনতে এবং ফিডব্যাক দিতে ব্যবহার করা হবে ‘জিপু এআই-২’ ও ‘জিপু এআই-৩’। আছে মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম জিপু এআই৪ এবং অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি, যা রোগীদের অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রাকৃতিকভাবে হাঁটার অনুশীলন করাবে। প্রচলিত চিকিৎসার বিপরীতে এই রোবটগুলো রোগীকে দীর্ঘসময় ধরে ক্লান্তিহীনভাবে থেরাপি দিতে সক্ষম। তিনি আরো জানান, চীনের সরকার এই প্রকল্পে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তির দিক থেকে এই সেন্টারটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। এসব রোবটের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব। অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর আরো বলেন, সেন্টারটি চালু হওয়ায় বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর পুনর্বাসন চিকিৎসায় এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। দেশীয় চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং পক্ষাঘাতগ্রস্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য, সেন্টারটি প্রাথমিকভাবে চালুর জন্য ইতিমধ্যে চীনের ৭ সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করলে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে। এই রোবটিক সেন্টার যেসব রোগীরা স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা বা শরীরের অঙ্গের দুর্বলতাসহ জটিল পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তাদের উপকারে আসবে।
এরপর নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয় মঙ্গলবার বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টান্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি। সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী।
এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয় সোমবার সকালে ৬ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখে তাঁর প্রথম কর্ম দিবস শুরু করেন। ওই দিন নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়কে বিএমইউ ড্যাবের সম্মানিত সভাপতি ও বিএমইউ এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী ও বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএমইউ এর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর নেতৃত্বে ড্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত শতাধিক নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ড্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ এর ডিন ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. শাহিদুল হাসান বাবুল, নাক, কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, কলোরেক্টাল সার্জন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সহিদুল ইসলাম, এ্যনেসথেশিওলজিস্ট সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ হাসনুল আলম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রিদওয়ানুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম, পিএইচডি, ডা. আরিফুজ্জামান পলাশ, ডা. আবু নূর মাসুদ, ডা. এস এম আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
ড্যাব নেতৃবৃন্দ বিএমইউকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। উপাচার্য এ সময় ড্যাব নেতৃবৃন্দের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বিএমইউ-এর চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, আইসিইউ সেবার মানউন্নয়ন, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গরূপে চালুকরণসহ চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসা সেবাসহ নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।