প্রকাশকালঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১:২৬ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম নগরী থেকে রাউজান পর্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, চার দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন ডেভিড ইমন। তাকে গ্রেফতারের অভিযান শুরু হলে তিনি পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তার বাবা মো. মুসা ওমানে কর্মরত ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে মারা যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল ইমনের। নিয়মিত সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে অনুশীলনে যেতেন। পরে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন। কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি জাতীয় ও বিদেশি ক্রিকেটারদের নেট সেশনেও বোলিং করতেন তিনি।
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির সাবেক কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন একজন প্রতিভাবান বাঁহাতি 'চায়নাম্যান' স্পিনার ছিলেন। ব্যাটিংয়েও দক্ষতা ছিল। তবে ২০২০ সালের পর হঠাৎ করেই তিনি ক্রিকেট অঙ্গন থেকে হারিয়ে যান।
পরিবার ও স্বজনদের তথ্যমতে, রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হলেও এইচএসসি পরীক্ষা দেননি ইমন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২২ সালে ওমানে গেলেও প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে গিয়ে বায়েজীদ বোস্তামী এলাকার আতুরার ডিপোতে অবস্থান নেন। সেখানেই শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরে বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদ আলীর হয়ে অপরাধচক্র পরিচালনায় যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বাকলিয়া জোড়া হত্যা, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, হাটহাজারীর জোড়া হত্যা, চান্দগাঁওয়ের আফতাব হত্যা এবং অন্যান্য অপরাধসহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি ডেভিড ইমন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীর প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করতেন ইমন। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তিনি নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাতেও তার সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ডেভিড ইমন ফোনে এমনভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন যে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। অস্ত্র ব্যবহারে তার দক্ষতাও ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন হত্যা, চাঁদাবাজি ও সংগঠিত অপরাধের মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করে অনলাইন নিউজ পোর্টালের উপযোগী সংস্করণ বা প্রিন্ট পত্রিকার প্রতিবেদনের ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।