প্রকাশকালঃ ৬ মে ২০২৬, বিকাল ৭:৩৪ সময়

অনলাইন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দুইজন তৃণমূল কংগ্রেস-এর কর্মী বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেও আটক করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য এবং তিনজন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদস্য। সন্দেশখালি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রথম হত্যার ঘটনা ঘটে উদয়নারায়ণপুর-এ। অভিযোগ রয়েছে, বিজয় উদযাপনের সময় যাদব বর (৪৮) নামে এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি, তৃণমূল সমর্থিত দুর্বৃত্তরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
এদিকে নিউটাউন-এর বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলায় মধু মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান অভিযুক্তসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, বেলেঘাটা এলাকায় নিখোঁজ তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে নানুর-এ আবির শেখ (৪৫) নামে আরও এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
সহিংসতার ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করছে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাদের শতাধিক দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের বাড়িঘরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের নাম ব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও সহিংসতা বা নাশকতার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই অন্তত ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। অনুমতি ছাড়া মিছিল বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।