প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:২৫ সময়

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কাছে একটি আবাসিক ভবনে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। মঙ্গলবার গভীর রাতে কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় বাড়িটিতে ১৩ জন পুরুষ ও একজন নারী পার্টি করছিলেন। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় তিনজন বন্দুকধারী বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ওই নারীও রয়েছেন।
পুলিশের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের কয়েকজন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে আগে থেকেই নজরদারি ছিল। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইএনসিএর প্রতিবেদক জানান, হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দুকধারীরা হতাহতদের একজনের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গাড়িটিকে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়।
হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের উচ্চ হত্যাকাণ্ডের হার থাকা দেশগুলোর অন্যতম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ হত্যার শিকার হন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকজন নারী হত্যার ঘটনায়ও দেশটিতে উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল।
অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ, মাদক পাচার ও অবৈধ খনিজ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধ দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়মিত সহিংসতার জন্ম দেয়। গত বছর জোহানেসবার্গের একটি পানশালায় বন্দুকধারীদের হামলায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সংগঠিত অপরাধকে গণতন্ত্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন।