প্রকাশকালঃ ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১:২০ সময়

অনলাইন ডেস্ক
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর পানীয় গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের বিভিন্ন সাধারণ সমস্যা কমাতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রদাহ কমাতে এসব পানীয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে লেবু পানি অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। নিয়মিত লেবু পানি পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি হজমশক্তির উন্নতি ঘটিয়ে শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষণ করতে সহায়তা করে। ওজন নিয়ন্ত্রণেও অনেকেই লেবু পানি পান করে থাকেন।
পুদিনা পাতা হজমজনিত সমস্যা দূর করতে কার্যকর বলে পরিচিত। পুদিনা পানি ক্ষুধা বাড়াতে এবং বদহজমের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে পেটের অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যায় এটি উপকারী হতে পারে। পুদিনা ও লেবুর টুকরো মিশিয়ে তৈরি এই পানীয় ফ্রিজে সংরক্ষণ করে কয়েকদিন পর্যন্ত পান করা যায়। নিয়মিত এক থেকে দুই গ্লাস পুদিনা পানি পেটের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
আদা দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা পানি বমি বমি ভাব, বমি এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া নারীদের মাসিকের সময় হওয়া ব্যথা উপশমেও আদা পানির উপকারিতা রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পানি ও আদা ফুটিয়ে সহজেই এই পানীয় তৈরি করা যায় এবং সারাদিন অল্প অল্প করে পান করা যেতে পারে।
ওজন কমাতে আগ্রহীদের কাছে মধু পানি একটি জনপ্রিয় পানীয়। সকালে খালি পেটে মধু মিশ্রিত কুসুম গরম পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে বলে মনে করা হয়। এছাড়া মধু পানি গলা ব্যথা উপশম, অ্যালার্জির উপসর্গ হ্রাস এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। গরম পানি কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর তাতে এক থেকে দুই চামচ মধু মিশিয়ে পান করলেই সহজে এই স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পানীয় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। তবে কোনো শারীরিক সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।