প্রকাশকালঃ ২৫ জুন ২০২৬, দুপুর ১:১৩ সময়

অনলাইন ডেস্ক
স্বাদে ও দামে সহজলভ্য হওয়ায় অনেকের কাছেই জনপ্রিয় খাবার চিনাবাদাম। পার্কে, ভ্রমণে কিংবা অবসরে আড্ডার সময় এটি খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। তবে শুধু মুখরোচক খাবার হিসেবেই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও চিনাবাদাম বেশ সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে চিনাবাদাম খেলে শরীরের বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়।
চিনাবাদামে রয়েছে ফাইবার, বি-ভিটামিন, ভিটামিন-ই, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
চিনাবাদামে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার এবং প্ল্যান্ট স্টেরল ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিতে সমৃদ্ধ চিনাবাদাম ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এবং ব্রণের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
চিনাবাদামে থাকা নিয়াসিন ও ফোলেট মস্তিষ্কের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতেও এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লো-গ্লাইসেমিক খাদ্য হওয়ায় চিনাবাদাম রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চিনাবাদামে থাকা পলিফেনল ও ভিটামিন-ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস পিত্তথলির সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। বিশেষ করে পিত্তপাথর ও পিত্তথলি অপসারণের প্রয়োজনীয়তা কমার সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর চিনাবাদাম সহজেই স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিনাবাদাম খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য নানা ধরনের উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ বা তেলে ভাজা চিনাবাদামের পরিবর্তে প্রাকৃতিক বা হালকা ভাজা চিনাবাদাম বেছে নেওয়াই বেশি উপকারী।