প্রকাশকালঃ ৩০ জুন ২০২৬, দুপুর ৪:২১ সময়

ইসলামি শিক্ষাকে কেবল ধর্মীয় শিক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় উন্নয়ন, নৈতিকতা চর্চা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই ইসলামি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে এই ধারার শিক্ষার্থীরাও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। তিনি এ ক্ষেত্রে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণানির্ভর, পরিকল্পিত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অতীতে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে দেশের মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও শক্তভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ইসলামি শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম।
মাদ্রাসা খাতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অনেক মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ইসলামি শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং কারিকুলাম আধুনিকায়নে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া কিছু মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের নজরে এসেছে। এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন করলেই হবে না, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। ইসলামি শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ বিভিন্ন জাতীয় সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অতীতেও নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।