প্রকাশকালঃ ২৯ জুন ২০২৬, বিকাল ৬:১৫ সময়

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এ লক্ষ্যে মাঠের প্রাপ্যতা নিশ্চিতসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। যেসব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রয়েছে, সেগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চাহিদা নিরূপণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এতে আরও জানানো হয়, দেশের প্রায় ১১ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্যসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নেই, সেখানে আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের জন্য সমঝোতা বা চুক্তির উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া মন্দির, মসজিদ, খালি জায়গা, পতিত জমি কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার মাঠ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবহার করে খেলাধুলার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ করা সম্ভব নয়, সেখানে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দাবা, ক্যারামসহ ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিদিন পাঠদান শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাঠ শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বগুণ এবং দলগত কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।