প্রকাশকালঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১:৪৫ সময়

আফরাতুল করিম রিমু:
ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রী বহনের কারণে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার—এমন অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে। যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিয়মিতভাবেই টিকিট ছাড়া যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে, যা রেলওয়ের আয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জানা গেছে, কিছু ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে আদায় করা এই অর্থের একটি অংশ দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মীর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে থাকে বলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী জানান, আন্তঃনগর ট্রেনের খাবার বগি ও দাঁড়িয়ে যাওয়ার অংশে প্রায়ই টিকিটবিহীন যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্টেশন ছাড়াও যাত্রী ওঠানামার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে অতিরিক্ত ভিড়ে যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ম মেনে টিকিট কেটে ভ্রমণকারীরা সিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী টিকিট ছাড়া ভ্রমণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষার ঘাটতির কারণে এ অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব ফাঁকি রোধে নিয়মিত টিকিট চেকিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যস্ত রুটগুলোতে পর্যাপ্ত টিকিট পরীক্ষক না থাকায় অনিয়মের সুযোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।