প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:০২ সময়

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৫ টাকা ব্যয়ের একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। চীন সরকারের ঋণ ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এ প্রকল্পে সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন লাইন, বর্জ্যপানি শোধনাগার, বহুমুখী জেটি ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি দেশের বাইরে থাকায় অনলাইনে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পের আওতায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’-এর বিভিন্ন পূর্ত কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। অবকাঠামো নির্মাণ ও উপযোগ সেবা সংস্থানের কাজ চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত প্যাকেজের পূর্ত কাজ সরাসরি ক্রয়ের জন্য চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের অনুকূলে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্রের নথি ইস্যু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি দরকষাকষি করে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) চলতি বছরের ২০ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ অনুমোদন করেছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের একটি সড়ক এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৪ মিটার প্রস্থের আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দৈনিক ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের সক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন লাইন ও জেলা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। থাকবে দৈনিক ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধনাগার।
প্রকল্পের আরও অংশ হিসেবে ২০ হাজার ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, একটি কঠিন বর্জ্য সংগ্রহকেন্দ্র, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া কঠিন বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক শোধন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধনাগারে শোধিত পানি পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।