প্রকাশকালঃ ২১ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মমিনুল মিয়া (৪০) নামে এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়াসহ তাঁর সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
নিহত মমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শাহিন মিয়ার নেতৃত্বে একটি চক্র অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছিল। গত রোববার বিকেলে মমিনুল মিয়া তাঁর অটোরিকশা নিয়ে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে গেলে শাহিন মিয়া তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে শাহিন মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা মমিনুলকে বেধড়ক মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মমিনুলের মরদেহ বুধবার সকাল ১০টার দিকে দড়িকান্দি এলাকায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে মমিনুলকে আহত করার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মোবারক হোসেন গত সোমবার রাতে সোনারগাঁ থানা-এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, চাঁদাবাজি ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
