প্রকাশকালঃ ৪ জুলাই ২০২৬, রাত ১১:০৭ সময়

ঢাকা প্রেস প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে নতুন বাঙ্গরা উপজেলা। সম্প্রতি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হলে বাঙ্গরা ও মুরাদনগরজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলার মোট ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এই উপজেলা গঠন করা হয়েছে। উপজেলা অনুমোদনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। অনেকেই দিনটিকে বাঙ্গরা অঞ্চলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গরাকে উপজেলা করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ১০টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আন্দোলন, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উপজেলা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বিষয়টি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নিকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন সরকারি প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মুরাদনগর উপজেলা সদরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হতো। নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে তারা আশা করছেন।
বাঙ্গরার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ২০১৪ সালে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা থানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটিকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জোরালো হয়। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে, নতুন উপজেলা গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা। তাদের মতে, বাঙ্গরাকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।
