প্রকাশকালঃ ২৩ মে ২০২৬, দুপুর ১:৩৬ সময়

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”
শুক্রবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার খবর সংস্থাটিকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত পরিবেশ- বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকাতেই এসব শিশু সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইউনিসেফ নিহত ও নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, চলতি বছরে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও নির্মম সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, বিচার ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে হবে।
শিশু ও নারীদের জন্য মানসিক সহায়তা বৃদ্ধি, পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের পরিচয় বা ছবি প্রকাশ না করে তাদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অপরাধের ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন করে মানসিক ক্ষতির কারণ হয় বলেও সতর্ক করা হয়।
একই সঙ্গে সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা তাৎক্ষণিক সহায়তা ও সেবা প্রদান করে থাকে।
ইউনিসেফ জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিটি শিশুরই নিরাপদ জীবন পাওয়ার অধিকার রয়েছে- বাড়ি, স্কুল, সমাজ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ সব জায়গায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।