প্রকাশকালঃ ৭ মে ২০২৬, দুপুর ১:৩৭ সময়

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে পাঁচটি উপজেলা গঠন এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রস্তাব উঠছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) আসন্ন সভায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব প্রস্তাব অনুমোদন পেলে স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আসবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে নিকার-এর ১২০তম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বগুড়া হবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, অবকাঠামো ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনায় এটি সিটি করপোরেশন হওয়ার উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌর এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার হলেও বাস্তবে জনসংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি ছিল স্থানীয়দের। প্রাক-নিকার কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবটির পক্ষে মত দিয়েছে।
এদিকে নতুন উপজেলা গঠনের তালিকায় রয়েছে কক্সবাজার, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও ও লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি এলাকা। বর্তমানে দেশে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫। নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদিত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০-তে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভেঙে ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া এ অঞ্চলটি উপকূলীয় হওয়ায় বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। প্রশাসনের মতে, নতুন উপজেলা হলে সেবা কার্যক্রম দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মোকামতলা’ নামে আরেকটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। যদিও জনসংখ্যা ও আয়তনের কিছু শর্ত পুরোপুরি পূরণ হয়নি, তবু ভৌগোলিক অবস্থান ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় বিশেষ সুপারিশ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি উপজেলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, বড় আয়তন ও অতিরিক্ত ইউনিয়নের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নতুন দুটি উপজেলা গঠিত হলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন নিয়ে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে আরেকটি উপজেলা করার প্রস্তাব উঠছে। উপকূলীয় ও দূরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রস্তাব তৈরির আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, গণশুনানি, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রাক-নিকার কমিটিও যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
নিকার সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মকর্তা নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
