প্রকাশকালঃ ৬ জুন ২০২৬, দুপুর ১১:০৫ সময়

খাদ্যবর্জ্যের সহজলভ্যতা, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে রাজধানী ঢাকায় দ্রুত বাড়ছে ইঁদুরের সংখ্যা। কাঁচাবাজার, ড্রেন, আবর্জনার স্তূপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও আবাসিক এলাকায় এখন দিনদুপুরেও ইঁদুর দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুর শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। ইঁদুরের মল-মূত্র ও শরীরের মাধ্যমে হান্টা ভাইরাস, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু খাদ্য ও পানিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া টাইফয়েডসহ নানা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
প্রাণিবিদরা বলছেন, নগরীতে জমে থাকা বর্জ্য ও খাদ্যের সহজলভ্যতাই ইঁদুরের বংশবিস্তারের প্রধান কারণ। ড্রেন, নর্দমা, আবর্জনার স্তূপ ও ভবনের ফাঁকফোকর তাদের নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন বড় আকারের ইঁদুর নিয়মিত দেখা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইঁদুরের সংখ্যা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সাপের সংখ্যাও বাড়তে পারে, কারণ ইঁদুর সাপের প্রধান খাদ্য।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ইঁদুরের পাশাপাশি অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে মশা, মাছি ও অন্যান্য রোগবাহী প্রাণীর বিস্তারও বাড়ছে। ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উৎস থেকেই বর্জ্য পৃথক করা, নিয়মিত অপসারণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ওয়ার্ডে উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথককরণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।