প্রকাশকালঃ ১০ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১৮ সময়

শেরপুরের নকলায় অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষকদের আগ্রহের সমন্বয়ে চলতি রবি মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৩৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। এ যেন, লাল মরিচের ঝাঁজে নকলার মাঠে সবুজ বিপ্লবের সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছর উপজেলায় বিজলি, বিজলি প্লাস ও বালিঝুরি এমনসব জনপ্রিয় ও উচ্চ ফলনশীল জাতের মরিচ বেশি চাষ করা হয়েছে। যা স্বল্প সময়ে ফলন দেয় এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মরিচ চাষ সম্প্রসারণ ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২২টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্লটের জমির পরিমাণ ৩৩ শতক করে। এসব প্রদর্শনীতে নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার এবং প্রয়োজনীয় বালাইনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে ইউনিয়নভিত্তিক চাষের চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার উরফা, বানেশ্বরদী, পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়েছে। এসব এলাকার মাটি ও আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে আবাদ করেছেন।
উরফা ইউনিয়নের কোদালজা বাজার (কোদালধোয়া ঘাট) এলাকার মরিচ চাষী নুর ইসলাম জানান, সে ২০ শতক জমিতে দেশীয় জাতের মরিচ চাষ করেছেন। জমি তৈরি, বীজ বপন, শ্রমিক মজুরি, সার ও সেচ বাবদ এপর্যন্ত তার ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খেত থেকে মরিচ তোলার শ্রমিক মজুরিসহ মোট খরচ হবে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই ২০ শতক জমিতে ৪ থেকে ৫ মণ শুকনা মরিচ পাবেন। এতে বাজার মূল্য মোতাবেক আয় হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। যা অন্যকোন আবাদে প্রায় অসম্ভব। তাই দিন দিন অন্যান্য কৃষকরা মরিচ চাষে ঝুঁকছেন।
একই এলাকার মরিচ চাষী উসমান আলী ১৫ শতক, ছায়েদুল ইসলাম ২০ শতক, আলাল উদ্দিন ২০ শতক, দুজাহান মেম্বার ১০ শতক, মিরাজ আলী ২০ শতক, চানু মিয়া ১০ শতক ও লেদ্দা মিয়া ৩০ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ করেছেন। এছাড়া ওই এলাকার অন্তত অর্ধশত কৃষক অন্যান্য আবাদের পাশাপাশি মরিচ চাষ করেছেন।
ভূরদী খন্দকারপাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো. ছায়েদুল হক জানান, নকলার প্রায় সব এলাকাতেই কম-বেশি মরিচের আবাদ করা হয়েছে। মাঠে এখন যে লাল-সবুজ স্বপ্নের ফসল আছে, তা শুধু মরিচের ঝাঁজে নয়; এ যেন কৃষকের আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন পূরণের প্রতিচ্ছবি।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার আশাব্যক্ত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, স্বল্প মেয়াদি এই মসলা জাতীয় ফসল চাষে কৃষকরা কয়েক বছর ধরে লাভ বেশি পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মরিচ চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।