প্রকাশকালঃ ২৭ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১১:১০ সময়

রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, তরুণ ও আগামী প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে তামাক পণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ করা হবে, যাতে এর মূল্য তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উবিনীগ ও তাবিনাজ আয়োজিত ‘তরুণদের তামাক শুরু নিরুৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের তামাকমুক্ত রাখতে সদ্য পাশ হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তামাক পণ্যের স্তর কমিয়ে দাম বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কর ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ধোঁয়াযুক্ত তামাকের পাশাপাশি ধোঁয়ামুক্ত তামাকপণ্যের ওপরও কার্যকর করারোপের প্রস্তাব দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মারা যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
তার প্রস্তাবনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মধ্যম ও নিম্ন স্তর একীভূত করে ১০ শলাকা প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, উচ্চ স্তরের প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের প্যাকেট ২০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর করারোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং উন্নয়নশীল দেশে দাম ১০ শতাংশ বাড়লে তামাক ব্যবহার ৪-৫ শতাংশ কমে।
অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলেও তামাক পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম বেড়েছে। তাই ক্ষতিকর পণ্যের দাম আরও বেশি হারে বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলায় তামাকে কার্যকর কর আরোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রস্তাবিত কর কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকার উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জুয়েল সরকার, ড. মো. সহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাবিনাজ সদস্য, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।