প্রকাশকালঃ ২২ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ৩:৪৩ সময়

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটন, বুধবার: ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন। তবে বৈঠক চলাকালে ইরানের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত কোনো সাড়া না পাওয়ায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের সময় জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিমান প্রস্তুত থাকলেও ইরানের প্রতিক্রিয়া না আসায় তার সম্ভাব্য পাকিস্তান সফর নিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানকে আলোচনায় আনতে সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও শেষ মুহূর্তে অবস্থান পরিবর্তন করেন ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে—তবে এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ খোলা রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা সতর্ক করেছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে ইরানের ওপর চাপ কমে যেতে পারে এবং তারা আলোচনা দীর্ঘায়িত করতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ট্রাম্প নিজেও কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইরান আলোচনায় ফিরলে পুনরায় কূটনৈতিক সফর আয়োজন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উভয় দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চাপ তৈরি করছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কঠোর অবস্থানই দেখা যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর উপদেষ্টা মাহদী মোহাম্মদী ট্রাম্পের ঘোষণাকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না,” এবং প্রয়োজনে সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারিও দেন।
হোয়াইট হাউসের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভেদই আলোচনায় অগ্রগতির বড় বাধা। কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির নেতৃত্ব এখনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে—একক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
মার্কিন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনি-এর ভূমিকাও এ জটিলতায় প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্পও তার পোস্টে ইরান সরকারের মধ্যে ‘গভীর বিভক্তি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতির অনির্দিষ্ট মেয়াদ বৃদ্ধি কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার কৌশল হলেও, ইরানের অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে সংকট নিরসনে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।