প্রকাশকালঃ ১০ মে ২০২৬, দুপুর ১১:২৬ সময়

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসর। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু এজন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে আয়োজকদের।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনো চাপ বা রাজনৈতিক অবস্থান ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে দূরে রাখতে পারবে না। তবে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভিসা জটিলতা তৈরি করা যাবে না। বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও একই নীতি কার্যকর রাখতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দর বা ইমিগ্রেশনে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের জন্য সহজ ভিসা ব্যবস্থা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্টেডিয়ামে শুধুমাত্র ইরানের সরকারি পতাকা বহনের অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সংগীত যথাযথভাবে বাজানো এবং সংবাদ সম্মেলনে শুধুমাত্র ফুটবলসংক্রান্ত প্রশ্ন করার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
সম্প্রতি কানাডায় একটি ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফিফার সাধারণ সভায় যোগ দিতে গিয়ে ভ্যাংকুভার বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় মেহদি তাজকে। পরে কানাডা সরকার জানায়, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং আয়োজক দেশগুলোতে অংশগ্রহণে বাধা হবে না। ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ইরান ফুটবল ফেডারেশনকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানানো হবে। তবে আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর। মার্চে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে টানা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে দেশটি।