প্রকাশকালঃ ২০ মে ২০২৬, দুপুর ৪:০৮ সময়

বিনোদন প্রতিবেদক
ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী শহর কান এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মর্যাদাপূর্ণ কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে আয়োজিত প্রামাণ্যচিত্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘কানস ডক’-এ এবার অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের চার নির্মাতা। নিজেদের ব্যক্তিগত গল্প, সামাজিক বাস্তবতা, স্মৃতি ও সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে তারা হাজির হয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন কাজী আরেফিন আহমেদ, চিত্ত আনন্দী, এস এম কামরুল আহসান ও সুমন দেলোয়ার। ফরাসি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্প কর্মসূচি পিআইসিসির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রুনো লাক্রাম্প। আয়োজনে যুক্ত রয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য চিটাগাং, বিসুবো আর্ট অর্গানাইজেশনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক অংশীদার।
‘মার্শে দ্যু ফিল্ম’-এর বিভিন্ন পিচিং সেশন, নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিয়ে নির্মাতারা তাদের প্রজেক্টের জন্য সহপ্রযোজক, পরিবেশক ও অর্থায়নের সম্ভাবনা খুঁজছেন। আয়োজকদের মতে, সমসাময়িক বাংলাদেশের মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কাজী আরেফিন আহমেদ কানে উপস্থাপন করেছেন তাঁর প্রামাণ্যচিত্র ‘অপেক্ষা’। এটি নির্মিত হয়েছে তাঁর ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত দাদিকে কেন্দ্র করে, যেখানে স্মৃতি হারানোর মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে একই ভাবনার একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজের জন্য তিনি ফিপরেস্কি পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।
সুমন দেলোয়ার অংশ নিয়েছেন ‘মাই কাজিন’ প্রজেক্ট নিয়ে, যেখানে এইচআইভি পজিটিভ হয়ে দেশে ফেরা এক প্রবাসী শ্রমিকের সামাজিক বঞ্চনা ও বেঁচে থাকার লড়াই তুলে ধরা হয়েছে।
এস এম কামরুল আহসান কানে হাজির হয়েছেন ‘ইন সার্চ অব হার’ নিয়ে, যা দুই ডাচ দত্তক সন্তানের বাংলাদেশে ফিরে নিজেদের শিকড় অনুসন্ধানের আবেগঘন যাত্রা নিয়ে নির্মিত।
অন্যদিকে চিত্ত আনন্দীর ‘ব্লু-কলারস ফ্রম দ্য ফ্রন্টলাইন’ প্রজেক্টে উঠে এসেছে তিন প্রজন্মের নারীর শ্রম, সংগ্রাম ও টিকে থাকার বাস্তবতা।
কাজী আরেফিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
চিত্ত আনন্দী বলেন, তাঁর গল্প বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের স্বপ্ন ও বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলেও এটি একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাছাই করা হয় এবং জুরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে চারটি প্রজেক্ট নির্বাচন করা হয়। শৈল্পিক উৎকর্ষ, পরিচালনার স্বাতন্ত্র্য ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনাকে নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশের চার নির্মাতার অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রামাণ্যচিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।