প্রকাশকালঃ ৯ মে ২০২৬, দুপুর ১:১০ সময়

সরকারি চাকুরেদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল নিয়ে আসছে বড় সুখবর। কেবল কর্মরতরাই নন, নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা, টিফিন ও শিক্ষা ভাতাতেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এরইমধ্যে পে-স্কেল পুনর্গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে, যা দ্রুতই সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেয়া হবে।
পেনশনে বড় স্বস্তি
নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে পেনশনের হার ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এতে অবসর জীবনে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠদের আর্থিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়ছে ভাতার পরিমাণ প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি খসড়া বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাতাগুলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকার ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার পথে হাঁটছে।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুনর্গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।