প্রকাশকালঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৪:১১ সময়

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে সাইফুল ইসলাম তুহিন লালমাই পাহাড়ের ‘সানন্দা’ এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্তের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পনা করে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আরও জানায়, এ ঘটনায় ফাহাদ ও কামরুল নামে তার দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরে পুলিশ তাদেরও হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হলে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আটক সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে কোনো পিসিআর বা পূর্ব অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তার বাবার নাম নূর আলম এবং তিনি কুমিল্লা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও পরে ঝরে পড়ে।
মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। সে একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মো. কামরুল হাসানের বয়স ১৮ বছর। তার বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে। আটক মো. সিয়ামের বয়স ১৯ বছর এবং তার বাড়ি একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামে।
পুলিশ সুপার জানান, তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাইসহ তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।